অর্কর স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে মিহির আর শান্তনু কাছের।মিহির অর্কের বাবার কলিগের ছেলে।এখনো তিনি কলকাতাতেই আছেন।অর্ক ক্লাসে সেকেন্ড হয়, শান্তনুও প্রথম দশজনের মধ্যে।মিহির একটু পাকা ছেলে পড়াশোনার চেয়ে ও খেলাধুলাতে পটু।তবে মিহির খুব হেল্পফুল ছেলে।মিহির সঙ্গে থাকলে অর্ক আর শান্তনু ক্লাসে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়।দুস্টু ছেলেরাও চুপ করে থাকে।টিফিনের সময় ওরা টিফিন ভাগ করে খায়।সুছন্দা অর্কের জন্য নিজে টিফিন রেডি করে দেয়।অর্ককে মা’ই বলেছে মিহির আর শান্তনুকে ভাগ দিতে।ওরা টিফিন খাচ্ছিল।মিহির বলল–বাবার পুরোনো স্মার্ট ফোনটা এখন আমার বুঝলি।অর্ক বা শান্তনুর এখনো ফোন নেই।অর্ককে ওর মা বলেছে মাধ্যমিকের পরে ফোন দেবে।তাই দুজনে অধীর আগ্রহে বলল—ফেসবুক আছে?—আছে।অর্ক বলল—হোয়াটস অ্যাপ?—আছে।শান্তনু বলল—ইউটিউব?—আছে।সব আছে আর ভালো ভালো গেমসও আছে।পাবজি খেলা যায়।অর্ক বলল—পাবজি!ওয়াও…—-আর সবচেয়ে নতুন যেটা আছে সেটা তোদের ছুটির সময় দেখাবো।কিন্তু…অর্ক আর শান্তনু দুজনেই খাবার চিবোতে চিবোতে তাকালো।মিহির একটা ফলের টুকরো অর্কের টিফিন বক্স থেকে নিয়ে বলল—আজকে কার বাড়ী ফাঁকা পাওয়া যাবে?শান্তনু বলল—অর্কের।—না, কাকিমা থাকেন তো?অর্ক বলল—না, মায়ের অফিস থেকে ফিরতে দেরী হয়।—তাহলে আজকে অর্কের বাড়ীতে বিকেলে…বিকেলে ওরা অর্কের বাড়ীতেই জমা হল।মিহির মোবাইলটায় একটা ভিডিও ক্লিপস দেখালো।একটা মেয়ে উলঙ্গ! শান্তনু বলল–একে পর্ন বলে আমি জানি, এসব দেখা ঠিক নয়।মিহির বলল—ইটস নট আ পর্ন, এইটা হল সেক্স এডুকেশন।মেয়েদের ভ্যাজাইনা কি জিনিস জানিস।অর্ক লজ্জা পেয়ে বলল—আই নো দ্যাট…নিষিদ্ধতার লজ্জায় তিনজনে হেসে উঠল।শান্তনু বলল—পেনিট্রেশন জানিস কিভাবে হয়?অর্ক বলল আমার বাপির একটা ম্যাগাজিন ছিল।ওখানে সব লেখা ছিল।আমি একদিন পড়েছিলাম।শান্তনু বলল—তোরা কোনোদিন দেখেছিস?মিহির বলল–দেখেছি, আগে তোর গল্পটা বল তারপর আমারটা বলব।শান্তনু বলল—দেখ, সেক্স হচ্ছে প্রাইভেট বিষয়।আমরা তো বায়োলজিতে পড়েছি রিপ্রোডাকশন…সেক্স না করলে রিপ্রোডাকশন হয় না।মিহির রেগে গিয়ে বলল—তুই কি এবার বায়োলজি ক্লাস নিবি?অর্ক হেসে বলল—শান্তনু ভুল কিছু বলেনি।রিপ্রোডাকশন হয় সেক্স করলে।মিহির সবজান্তার মত বলল–সে সব জানি আমাদের বাবা-মায়েরা সেক্স না করলে আমরা হতাম না।বাট সেক্স ইজ নট অনলি ফর রিপরিডাকশন, ইট ইজ অলসো ফর প্লেজার।আমার এক আংকেল আর্মিতে ছিল, আন্টির এফেয়ার ছিল তার এক বন্ধুর সাথে।আমি শুনেছি মা-বাবা কে আলোচনা করতে।কারণ আন্টি প্লেজার পেতেই করত।শান্তনু বলল—হুম্ম।আমার একবার কি হয়েছিল শুনিস, আমি তখন ক্লাস সেভেনে দু বছর আগে।আমার মামার বাড়ী গিয়েছিলাম।আমার ছোট মামা বিয়ে করেছে তখন সবে।ছোটমামার ড্রয়ারে একটা প্যাকেট পেয়ে, আমি কেটে বেলুন ফুলিয়ে ঘুরতে থাকি সকলের সামনে।তারপর সে কি মার খেলুম মায়ের হাতে।মিহির হেসে উঠল হো হো করে।অর্ক বলল–হাসির কি হল এতে?শান্তনু হাসি চাপতে না পেরে বলল—ওটা কন্ডোম ছিল।অর্ক বলল—কন্ডোম???মিহির হেসে বলল—প্রটেকশন নেওয়ার জন্য।সেক্স করলেও রিপ্রোডাকশন হবে না।অর্ক বলল—ওঃ।এক মিনিট।উঠে গেল অর্ক।বাপি-মায়ের বেডরুমে একটা ড্রয়ারে সে দেখেছে।প্যাকেটটা তুলে আনল।মিহির বলল—এটা তুই কোত্থেকে পেলি?—আমাদের বাড়ীতেই ছিল।শান্তনু বলল—রেখে দা ভাই।অর্ক বলল—এটাই কন্ডোম তো?মিহির বলল—হ্যা রে হ্যা।এইটা তোর বাবা-মা ইউজ করে।রেখে দে, তা নাহলে আমার মত তুই কাকিমার হাতে মার খাবি।সবাই হাসল।শান্তনু বলল—ইস আমরা কি বাজে সব আলোচনা করছি।মিহির বলল—আরে আমরা বড় হচ্ছি একদিন আমরাও..শান্তনু বলল—হ্যা তুই সেক্স কথায় দেখেছিস যেন?মিহির একটু চুপ করে গেল।বলল—আমি দুবার দেখেছি।একবার দেখেছি রাতে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যাবার সময়..অর্ক মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলল—ইস! কাকু-কাকিমার দেখেছিস! তোর লজ্জা করে না?শান্তনু বলল—লজ্জার কি? আমিও দেখেছি।দেখতে ক্ষতি কি।আরে আমাদের কাছে বাবা-মার সেক্স হল পবিত্র।ওটা না হলে কি আমরা জন্মাতাম।আমিও দেখেছি।বাবা-মা যে অত দুজন দুজনকে ভালোবাসে ওই সিন না দেখলে বুঝতে পারতাম না।মিহির বলল–ঠিক বলেছিস।আমার মা আবার সেক্স করবার সময় আদুরে বিড়াল হয়ে যায় বাবার কাছে, আর বাবা বাঘ।অথচ সারাদিন মা বাঘ বাবা বিড়াল হয়ে থাকে।শান্তনু বলল—ওটাই লাভ রে।মিহির বলল—তবে জানিস আমি দ্বিতীয় বার দেখেছিলাম আমাদের পাশের বাড়ীর…—ঋদ্ধি? শান্তনু বলল অবাক হয়ে।—কাকুকে বলিস না।যেটা বলব।মিহির সন্তর্পণে সাবধানতামুখী ভাবে বলল।—না, না, কে কাকে বলবে।এসব কোথায় আলোচনা করছি বাড়ীর কেউ জানলে ঠ্যাং ভেঙে দেবে।মিহির বলল—ঋদ্ধির মায়ের একজনের সঙ্গে এফেয়ার আছে।ওদের ভাড়াটে একটা মাস্টার থাকে।ওর সাথে।আমি ভুল করে একদিন ঋদ্ধিকে খুঁজে সিঁড়ি দিয়ে উঠে চমকে যাই।দেখে ঋদ্ধির মা শুয়ে আছে, পুরো ন্যাংটো, আর ওই মাস্টারটাও ন্যাংটো তার উপরে চড়ে…ব্যাস!বয়ঃসন্ধির কৈশরের উৎকণ্ঠা তিনজনেই যেন রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায়।অর্ক বলল—ঋদ্ধি কে রে? ওই ক্লাস সিক্সের ছেলেটা?যে ইন্টারম্যাথসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল?—হুম্ম।তবে ভাই কেউ তোরা কারোর কাছে ফাঁস করিস না।মা মেরে ফেলবে এইসব আলোচনা করি জানলে।মিহির বলল।শান্তনু বলল—ইন্টার ম্যাথসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল না ছাই।ওটা ঢপ।অর্ক বলল—ও ম্যাথস বলতে মনে পড়ল।প্রীতিশ স্যারের ক্লাসে হাইটেনডিস্টেন্স কিছু বুঝতে পারলি?শান্তনু বলল—প্রীতিশ স্যারের ক্লাসে সত্যিই কিছু বুঝতে পারা যায় না।মিহিরও তাল মিলিয়ে বলল—ঠিক বলেছিস।অর্ক হেসে বলল—মিহির তো প্রীতিশ স্যার কেন কোনো স্যারের ক্লাসেই কিছু বুঝতে পারিস না।শান্তনু হেসে উঠল।মিহির বলল—আচ্ছা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করা না?অর্ক বলল–না, না, তুই যে এতক্ষণ যে জ্ঞানগুলো দিলিস সেগুলো কি আমি জানতাম।সেগুলোই তুই কিন্তু পন্ডিত।শান্তনু আবার হেসে উঠল।বলল—না, না, অর্ক তুই সত্যিই কিন্তু অনেক কিছু জানতিস না? কন্ডোম কি জানতিস না?অর্ক বই আই খাতা বের করতে বলল—সেসব পরে জানবো।এখন তোরা খাতা বের কর।আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি।শান্তনু আর মিহিরকে অর্ক নিজের থেকে পড়ায় হেল্প করে।ওরা তিনজনে অতন্ত্য কাছের বন্ধু।ওদের বাড়ীর লোকেরাও জানে ওরা কত ক্লোজ।শান্তনু-আর মিহির চলে যাবার পরও ঋদ্ধির মায়ের ব্যাপারটা অর্কের মাথায় যেন রয়ে গেল।কেন যে ঋদ্ধির প্রতি একটা সংবেদনা অনুভব হচ্ছিল সে বুঝতে পারছিল না।কম্পিউটার খারাপ।টিভি দেখতেও ইচ্ছা করছেও না।বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছে সে ঋদ্ধির জায়গায় যদি সে থাকত! যন্ত্রনা হচ্ছিল তার, বুকটা কেমন দুঃখে ভরে উঠল।ঘুম ধরে গেল কখন বোঝেনি।ঋদ্ধির বাড়ী গেছে অর্ক।সিঁড়ি দিয়ে উঠছে।উঠতে উঠতে সে হাঁফিয়ে যাচ্ছে।ছাদের মুখেই ঋদ্ধি বলল—অর্ক দা, যেও না।অর্ক এগিয়ে গেল তবু।বন্ধ দরজা।এবার আর ঋদ্ধির বাড়ীর দরজা নয়।সে দেখছে আঁকার স্যারের বাড়ীর সে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে থাকা দোতলার টালির চাল দেওয়া ইটের ঘরের কাঠের দরজা।বন্ধ দরজার সেপাশ থেকে অদ্ভুত শব্দ! ঠিক যেন তার মায়ের গলা!অর্ক ধাক্কা দিয়ে দরজা ভেঙে ফেলতে চাইছে, কিন্তু তার হাত যেন অবশ।কেউ বেঁধে রেখেছে।অনেক চেষ্টার পর অর্কের ঘুম ভেঙে গেল!অর্ক বুঝতে পারল সে এতক্ষণ অদ্ভুত স্বপ্ন দেখছিল।তার মন টা ডুকুরে কেঁদে উঠল।মনের মধ্যে একটা বিরাট শূন্যতা কাজ করছে তার।মাকে-বাপিকে দুজনকে পেতে ইচ্ছে করছে তার এখনই।এই এক বছর আগেও অর্ক রাতে ভয়ের স্বপ্ন দেখলে বাপি-মায়ের ঘরে চলে যেত।দুজনের মাঝে গিয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ত।কিন্তু এখন যেন সেক্ষেত্রে শূন্য মনে হচ্ছে তার।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল রাত্রি ন’টা চল্লিশ! অর্কের খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে ঋদ্ধির জন্য, তার নিজের জন্য।সুছন্দা ফিরল পুরো দশটা সময়।অর্ক চুপটি করে থাকল।তার বুকে যে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে সেটা মাকে সে বলল না।সুছন্দা বলল—কি রে? বিকেলে টিফিন করেছিস?অর্ক মাথা নাড়ল।সুছন্দা শাড়ি বদলে স্নানে গেল।তারপর কিচেনে ঢুকল।অর্ক মায়ের বিপরীতে টেবিলে খেতে বসছিল।তার মুখ দিয়ে একটিও কথা বের হচ্ছিল না।সে চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছিল।সুছন্দার নজরে পড়ল।বলল—কি রে বাবু? মন খারাপ কেন? স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে?অর্ক মাথা নেড়ে না বলল কোনো উত্তর দিল না।সুছন্দা নিজের ভাগের মাছ অর্কের প্লেটে তুলে দিল।অর্ক বিরক্ত হয়ে বলল—মা আমার খেতে মোটেই ভালো লাগছে না।প্লিজ!সুছন্দা বুঝতে পারল ছেলের মুড খারাপ।অর্ক শুয়েছিল চুপচাপ।ঘুম আসছিল না।আচমকা লাইটটা জ্বলে উঠল।দেখল বালিশ নিয়ে মা দাঁড়িয়ে রয়েছে।–আমার কোমরটা ব্যথা করছে রে, তোর কাছে ঘুমোবো।অর্ক জানে মায়ের মাঝে মধ্যেই কোমরে ব্যথা করে।বলল—মা, মালিশ করে দিই।সুছন্দা অর্কের পাশে জায়গা করে বলল—দে।সুছন্দা শাড়ি পরেছে।অর্ক মায়ের কোমরে মলম লাগিয়ে মালিশ করতে লাগল।অর্কের নজরে পড়ল মায়ের পিঠে একটা লালচে দাগ।সুছন্দার পিঠ তকতকে কোমল ফর্সা।সামান্য দাগও নজরে আসে।অর্ক বলল—মা, এখানে কি হয়েছে?সুছন্দা বলল—কোথায়?—তোমার পিঠে!—ওঃ, পোকা টোকা কামড়েছে বোধ হয়।অর্ক মায়ের কোমরে আবার মালিশ করতে লাগল।সুছন্দা বলল—থাক, আর করতে হবে না।অর্ক ডিম লাইটটা জ্বালিয়ে দিয়ে মায়ের পাশে শুয়ে পড়ল।সুছন্দা অর্কের দিকে ঘুরে অর্ককে আদর করতে করতে বলল—বাবু? মন খারাপ কেন রে? কি করব বল অফিসের কাজ এখন খুব বেড়েছে।অর্ক বলল—মা, আঁকার স্যারের কাছে যেতে আমার ভালো লাগে না!—ওমা!কেন?—ভালো লাগেনা!—কেন স্যার কিছু বলেছে নাকি? আজ তো গেলাম কই কানু দা কিছু বলল না তো? কানু দা তো তোর প্রশংসা করে।—তুমি আজ আঁকা স্যারের বাড়ী গেছিলে?সুছন্দা অর্কের কপালে চুমু এঁকে বলল—ওখানে জরুরী কাজ ছিল, গেছিলাম।—আঁকা স্যারকে আমার ভয় লাগে মা!—ওঃ বুঝেছি, হুম্ম।কানু দা’কে দেখলে এরকম মনে হয়, উনি কত গুনী মানুষ জানিস।নিজেকে ব্যবহারই করল না।নাহলে কত বড় শিল্পী হতে পারত।—উনি কেমন খুব রাগি আর…বাকিটা বলবার আগেই সুছন্দা অর্কের গালে হাত দিয়ে আদর করে বলল—আচ্ছা তোর যদি যেতে না ইচ্ছা হয় যাস না।অর্ক খুব খুশি হল।মাকে জড়িয়ে ধরল।মায়ের আদর খেতে তার খুব ভালো লাগে।মায়ের কোমল স্পর্শ পেতে কার না ভালো লাগে।সুছন্দা অর্ককে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বলল— তোর বাপি ফোন করেছিল?–না।—তোর বাপি ফোন করেছিল সন্ধ্যে বেলা।আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম ফোন তুলতে পারিনি।আমি ভাবলাম তোকে ফোন করেছে হয়ত।—মা বাপিকে ফোন করব?—আজ আর এত রাতে ফোন করার দরকার নেই।লোকটা অফিস করে এসে ঘুমোচ্ছে হয়ত।এমনিতেই জানিস তো তোর বাপির ঘুম কত…অর্ক বলল—মা ভাইজাগ যাবে বাপির কাছে?—যাবো সোনা, পুজোর ছুটিতে।—সে তো এখন অনেক বাকি।—এখন খুব কাজের চাপ রে।
সকালে রঞ্জন ফোন করেছিল।অর্ক তখন টিউশন মাস্টারের কাছে পড়তে বসছিল।অর্ক যখন স্কুল যাবার জন্য রেডি হচ্ছে।সুছন্দা বলল—তোর বাপি তোর জন্য ল্যাপটপ কিনেছে।—বাবা তোমাকে বলে দিল! আমাকে সিক্রেট রাখতে বলেছিল।অর্ক জানে এরকম প্রায়ই করে বাপি।তাকে সিক্রেট রাখতে বলে নিজেই ফাঁস করে দেয় মায়ের কাছে।সুছন্দা নিজের অফিস যাওয়ার ব্যাগে জলের বোতল ভরতে ভরতে বলল—ওঃ তারমানে তোর বাপ–ছেলের যুক্তিতে এসব আগে থেকেই প্ল্যান?অর্ক হি হি করে হেসে উঠল।অর্কের স্কুলে আজ বাইর থেকে এনভায়রন্ট বিষয়ে সেমিনারের জন্য একটি সংস্থা এসেছে।ছাত্রদের বলতে দেওয়া হয়েছিল।অর্ক সবচেয়ে ভালো বলায় তাকে একটা স্টিফেন হকিন্সের বই গিফট পুরস্কৃত করেছে সংস্থা।শান্তনু বলল—-ফ্রেন্ড, তুই তো ফাটিয়ে দিয়েছিস।মিহির বলল—এর জন্য একটা পার্টি হয়ে যাক।ছুটির পরে অর্ক ফুচকা খাওয়াবে অর্ক।অর্ক বলল—আমি জিতলাম আমিই খাওয়াবো?শান্তনু বলল—ওকে, যা বিল হবে তিনজনে ভাগ হবে।ওরা যখন ফুচকা খাচ্ছিল মিহির ইশারা করে কিছু বলল।অর্ক আর শান্তনু দেখল ঋদ্ধিকে তার মা আনতে এসছে।অর্ক প্রথমবার ঋদ্ধির মাকে দেখল।মুটকি মহিলা, অতন্ত্য সাধারণ।সালোয়ার পরেছে।একটা তিরিশ-বত্রিশ বছরের ছেলের বাইকে ঋদ্ধি উঠল।তারপরে তার মা উঠল।শান্তনু বলল—এই ছেলেটা?মিহির বলল—হ্যা, চুপ কর।কেউ শুনলে ঝামেলা।তিনজনে চুপ করে গেল।বাড়ী ফিরে এলো অর্ক।তার চোখে ভাসছিল ঋদ্ধির মা আর ওই যুবক।মিহির যেমনটি দৃশ্য দেখেছিল কল্পনার চোখে সে দেখতে লাগল; উলঙ্গ ঋদ্ধির মা তার ভারী চেহারা মেলে ধরেছে তার উপর ওই পেটানো চেহারার যুবক শুয়ে আছে।তারপর যুবক কোমরের ধাক্কা দিচ্ছে।একটা ইংরেজি সিনেমায় এমনই ধাক্কা দিতে দেখেছিল অর্ক মিহিরের মোবাইলে।সেদিন সে ওই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেছিল।লোকটা তার শোনুটা মেয়েটার ওখানে…ইস! কি বিচ্ছিরি! অর্কর লজ্জা লাগল।ঋদ্ধির মার ওখানে ওই ভাড়াটে মাস্টারটা তার শোনা ঢুকিয়ে…নোংরা কাজটা…আর ভাবতে পারছে না অর্ক।ঋদ্ধির জন্য তার দুঃখও হচ্ছে আবার কেমন উত্তেজনা হচ্ছে।অর্ক মনোসংযোগ পরিবর্তন করতে নিজের ফিজিক্যাল সায়েন্সের বই খুলে বসল।সুছন্দা এলো সেই আগের মত রাত করে।অর্ক দেখল মা তার কাঁধের ব্যাগ থেকে খাবারের প্যাকেট বের করল।তার মানে আজকেও মা রান্না করবে না।খেতে বসে বসে মা বলল–বাবু আজকে তোর স্যারের ওখানে গিয়েছিলাম।—কোন স্যার?—আঁকার স্যার।আমি বললাম কানু দা’কে, আর তোর ভয় পাওয়ার কিছু নেই।তুই এবার গেলে কানু দা আর রাগি বিহেভ করবে তোর সাথে।অর্ক বিরক্ত হয়ে বলল—মা! আমি ওখানে যাবো না।—কেন? আমি তো বলে এসছি।আর বকবে না তোকে।—না মা আমি যাবো না, যাবো না।অর্ক গোঁ ধরে বসল।সুছন্দা রেগে গিয়ে বলল—কেন যাবি না? তুই কিন্তু অনেক বেড়ে যাচ্ছিস বাবু! আদরে মাথায় উঠে যাচ্ছিস!অর্ক চুপ করে খেতে লাগল।সুছন্দা বলল–তুই কাল সকালে যাবি।আর যাবার সময় আমি একটা জিনিস দেব নিয়ে যাবি।অর্কের মনে পড়ল কাল তো রবিবার! অর্কর মায়ের উপর খুব রাগ হচ্ছিল।সকালে ঘুম ভাঙল মায়ের ডাকে।অর্ক উঠে ব্রাশ করে দেখল মা টেবিলে জলখাবার রেডি করে রেখেছে।মা সকালেই কিচেনে ব্যস্ত।অর্ক যখন বেরোচ্ছে সুছন্দা এসে একটা টিফিন ক্যারিয়ার দিয়ে বলল—এটা কানু দা’কে দিয়ে দিস।—কি আছে মা এতে?—চিকেন করেছি, তোর স্যার বলেছিল।অর্কের খুব রাগ হচ্ছে।ওই বাজে লোকটার জন্য মা মাংস রেঁধে পাঠাচ্ছে!অর্ক যখন আঁকার স্যারের বাড়ী এলো দেখল কাঠের দরজাটা আগের মত বন্ধ।ঠেলে দিতেই খুলে গেল।অনেকক্ষন—স্যার! স্যার! ডাকাডাকি করতেও কেউ সিঁড়ি দিয়ে নামল না।অর্ক যখন ভাবছে সিঁড়ি দিয়ে উঠবে তখনই লুঙ্গি বাঁধতে বাঁধতে নেমে এল লোকটা।সেই তীব্র ঘামের গন্ধ লোকটার গায়ে।অর্ক টিফিন ক্যারিয়ারটা দিয়ে বলল—মা দিয়েছে।লোকটা হাতে নিয়ে বলল—নিচে বোস আসছি।অর্ক নিচে যেতে গিয়ে সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা জিনিসে ঠোক্কর খেল।তার চোখ পড়ল একটা নীল রঙের প্যাকেটের দিকে! TheyFitG31 লেখা।অর্কর চোখ পড়ল ওখানে লেখা ‘Condom’! বাবার ড্রয়ারে সে কন্ডোম পেয়েছিল।এই লোকটাও কি সেক্স করে? কিন্তু এই লোকটার তো বউ নেই।অর্ক কোনোদিন দেখেনি।তবে কি এই লোকটাও ঋদ্ধির মায়ের মত কাউকে!নেমে এলো লোকটা।বলল—কি রে? বের করিসনি এখনো?অর্ক ব্যাগ থেকে সব আঁকার জিনিসপত্র বের করতে লাগল।লোকটা বলল—তুই তোর মায়ের কাছে আমার বিরুদ্ধে নালিশ করেছিস?অর্ক ভয় পেয়ে গেল।লোকটা অর্কের ঠিক মুখের কাছে।লোকটার মুখে দাঁত না মাজার গন্ধ।এমনিতেই লোকটা কেমন নোংরা।অর্ক মুখ সরিয়ে নিল।লোকটা বলল—তোর বহুত সাহস না? সুছন্দাকে আমার বিরুদ্ধে বলিস? তোর ছাল তুলে লিতাম বাঁড়া! খালি তুই সুছন্দার ব্যাটা বলে ছাড় দিলুম?অর্কর ভয়ে চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এলো।অর্ককে কাঁদতে দেখে লোকটা হলদে দাঁত বের করে হাসতে লাগল।লোকটার অগোছালো চুল আর উস্কখুস্ক দাড়ি গোঁফের মাঝে কল খাওয়া পুরু বিড়িতে পোড়া ঠোঁটের মাঝে হাসিটা বেশ বিচ্ছিরি।বলল—মেয়েছেলের মত কাঁদছিস কেন? কাঁদবি না।শিল্পীরা কাঁদে না, কান্না পেলেও না, তারা তাদের কান্না সব শিল্পে ঢেলে দেয়।তুইও ঢেলে দে।অর্ক চোখ মুছে ফেলল।লোকটা পোট্রেট আঁকতে লাগল।অর্ক আঁকারও সময় পেল না, তার আগেই তার মায়ের ছবি এঁকে ফেলল।অর্ক অবাক হয়ে দেখছে, এ যে অবিকল তার মায়ের ছবি।এটা সহজে আঁকল কি করে!—-কি রে কার ছবি আঁকলাম?—মায়ের।—মাকে ভালোবাসিস?অর্ক মাথা নাড়ল।লোকটা বলল—আমিও।অর্ক অবাক হল, লোকটা তার মাকে ভালোবাসে না অর্কের মাকে, কি বলল বোঝা গেল না।অর্ক ভয়ে জিজ্ঞেসও করল না।তারপর লোকটা বলল—তোর মা তোকে ভালোবাসে?অর্ক বলল—হ্যা।লোকটা হেসে বলল—আমাকে ভালোবাসে না।এবারও অর্ক বুঝতে পারল না।কে লোকটাকে ভালোবাসে না।লোকটা অর্কের চুলটা পেছন থেকে শক্ত করে ধরে ঘেঁটে দিল।অর্কর মাথা নড়ে উঠল, চুল এলোমেলো হয়ে গেল।বলল–দেখ এজন্যই তোর মায়ের ছবি আমি ভালো আঁকি।তোর মা যদি তোকে না ভালোবাসে বলে তোর মনে হবে যেদিন সেদিন তুইও তোর মায়ের ছবিটা ভালো আঁকতে পারবি।
অসাধারণ একটা গল্প। এই গল্পের দ্বিতীয় পর্ব লিখুন, দয়া করে। অর্ক তার মায়ের লিখা একটি ডাইরি পাবে। যেখানে, সুছন্দা নিজেই নিজের প্রথম ধর্ষনের পুরো বর্ননা দিবে। তার ধর্ষনের অনুভূতি, পরের বার আবার স্বেচ্ছায় যাওয়া, অর্ক দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষার সময়, ভিতরের পুর্ন যৌন কর্মের রগরগে বর্ননা থাকবে। অর্কের প্রথমবার ধরা পড়ে যাবার পর এক ঘন্টা দেরিতে বাড়ি যাবার আগের ঘটনার পুর্ন এবং হার্ড সেক্সের বর্ননা থাকবে।
অবশ্যই দয়া করে লিখবেন। ভালো থাকবেন।
আপনার মত একজন মনোযোগী পাঠককে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ 💛